(গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী)

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ এক ঘূর্ণিঝড়ে মুহূর্তের মধ্যেই তছনছ হয়ে গেছে কয়েকটি গ্রাম। রবিবার সকালে উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। প্রায় এক মিনিট স্থায়ী ঝড়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করে প্রবল বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাছ উপড়ে পড়ে, টিনের চালা উড়ে যায়, ঘরবাড়ি ধসে পড়ে। এক মিনিটের এই ঘূর্ণিঝড়ে পুরো এলাকা তছনছ হয়ে যায়।

ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে উড়ে যাওয়া টিনের আঘাতে অন্তত ৭০ জন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে পড়ে গেছে। ফলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঘূর্ণিঝড়ের তিন দিন পরও অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা যায়নি। এতে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।

ঘূর্ণিঝড়ে দুইটি গবাদিপশু মারা গেছে। এছাড়া প্রচুর ফসলি জমি ও শাকসবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক জানান, এক রাতের ঝড়ে তাদের মাসের পর মাসের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়হীন ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন,

> “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার জন্য আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। দ্রুত ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।”