বাংলাদেশকে আমরা গর্বের সঙ্গে বলি একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, সামাজিক আচরণ ও রাষ্ট্রীয় নীতির নানা বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছেসংখ্যায় বেশি হলেও প্রভাব, অধিকার ও মর্যাদার জায়গায় মুসলমানরা ক্রমশ সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে।



ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অবহেলা, ইসলামভিত্তিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নামে একধরনের “বাছাই করা সহনশীলতা”—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নামাজ, রোজা, হিজাব কিংবা ইসলামী জীবনধারার চর্চা আজ অনেক সময় ঠাট্টার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অন্য ধর্মের মানুষদের অনুভূতির প্রতি যেমন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা দেখা যায়, মুসলমানদের ক্ষেত্রে তা প্রায়ই অনুপস্থিত।


শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও একই প্রভাব দেখা যায়। ইসলামী আদর্শে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে “অতি ধার্মিক” বা “গোঁড়া” আখ্যা দেওয়া হয়। টেলিভিশন, নাটক, ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামপন্থী চরিত্রগুলোকে প্রায়ই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে তরুণ প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় চেতনা হয়ে উঠছে অনুপ্রেরণার বদলে কৌতুকের বিষয়।


আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো—ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় সোচ্চার মানুষদের প্রায়ই চরমপন্থী বা উগ্রবাদী বলে চিহ্নিত করা হয়। অথচ অন্য ধর্মের অনুশীলনে কেউ বাধা দিলে সেটিকে “মানবাধিকারের লঙ্ঘন” বলা হয়। এই দ্বৈতমানদণ্ড সমাজে একটি গভীর মানসিক বিভাজন তৈরি করছে।


 যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরাও ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামি শিক্ষা, ও নৈতিকতার জায়গা সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে।


অতএব, সময় এসেছে নিজেদের অবস্থান নতুন করে ভাবার। ইসলাম কোনো সহিংসতার ধর্ম নয়—বরং এটি ন্যায়ের, মানবতার ও সাম্যের ধর্ম। সেই আদর্শ রক্ষায় প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব আছে নিজেকে সচেতন করা, অন্যকে সচেতন করা, এবং সমাজে ন্যায়ের পথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা।

ঘটনা-১)

মাওলানা মুহিবুল্লাহ মাদানী (৬০) নামে একজন ইমাম, টঙ্গী (গাজীপুর) এলাকায় অবস্থিত বিটিসিএল টিএন্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব ও পেশাগত ইমাম ছিলেন। 

তিনি বুধবার সকালে বাড়ি থেকে নামাজের পর হাঁটতে বের হন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। 

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ভোরে পঞ্চগড় সদর জেলার হেলিপ্যাড বাজার এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

স্থানীয়রা বলছেন, তিনি সামাজিক অবক্ষয় বিভিন্ন মূল্যবোধ ও ইসকনের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক বয়ান করতেন, তার পর থেকে হুমকি পাচ্ছিলেন। 

ঘটনা -২)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শ্রীশান্ত রায় নামের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সম্পর্কে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য এবং ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ইসকনের সদস্য। মুসলিম মেয়েকে নেশা করিয়ে ধ' র্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে।


ঘটনা -৩) 

আশা মনি ( ১৩)। গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম। মা বাবা গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে ভাড়া থাকেন গাজীপুরের মৌচাকে। তাদের পাশের ঘরে ভাড়া থাকে হিন্দু সঞ্জিত বর্মনের পরিবার। সঞ্জিতের বাড়ি টাঙ্গাইল। সঞ্জিতের এক শ্যালক লোকনাথ চন্দ্র দাস। লোকনাথের এক ভাগিনা জয় কুমার দাস চাকরির উদ্দেশ্যে এসে কিছুদিন সঞ্জিতের বাড়িতে ছিল। তখনোই সে মেয়েটিকে টার্গেট করে। জয় মেয়েটিকে সঞ্জিতের ঘরে নিয়ে তার সাথে লুডু খেলতো। যেহেতু মেয়েটি দেখতে একেবারেই ছোট এজন্য তার মা বাবা এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় নি। জয় মেয়েটিকে চকলেট ইত্যাদি নিয়মিত গিফট করে তার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকে। এই ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে মেয়েটির মা-বাবা টের না পেলেও সঞ্জিত ও তার স্ত্রী ঠিকই জানতো। বিশেষ করে সঞ্জিত ও তার স্ত্রী এসব ব্যাপারে মেয়েটিকে উৎসাহ দিত। হঠাৎ একদিন মেয়েটি মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় লোকনাথ ও তার দুলাভাই সঞ্জিতের সহযোগিতায় জয় মেয়েটিকে মেলা দেখাতে যাওয়ার নাম করে অপহরণ করে লোকনাথের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে লাগাতার তিনদিন ধ*র্ষণ করে।

এই তিনটি ঘটনা আমাকে অনেক কিছু ভাবায়। কিছু বিবেকহীন হিন্দুরা এই ধরনের অপরাধের সাথে সরাসরি যুক্ত এবং তারা ইসকন এর সদস্য।

 ঘটনা সত্যি কিন্তু আমি আপনি যেটা ভাবছি সেটা যদি সত্যি হয়, কোন সংগঠন এই অমানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে অবশ্যই সেই দলকে নিষিদ্ধ করা অতীব জরুরি।