আন্তর্জাতিক
আল আকসার তদারকি থেকে জর্ডান কে সরাতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের ওপর থেকে জর্ডানের ঐতিহাসিক তদারকির দায়িত্ব (কাস্টোডিয়ানশিপ) কেড়ে নিয়ে এটিকে একটি বহুধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে কাজ করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আল-আকসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা বদলে ইসরায়েলি স্বার্থের অনুকূলে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে।
মূল পরিকল্পনা ও প্রস্তাবিত পরিবর্তনব্যবস্থাপনা বদল: ১৯২৪ সাল থেকে চলে আসা জর্ডানের হাশিম রাজপরিবারের একক তদারকির অধিকার বাতিল করে আরব দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে (ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে) এর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে
পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর: মসজিদটির একক মুসলিম পরিচয় সংকুচিত করে এটিকে এমন একটি উন্মুক্ত পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি—তিন ধর্মের অনুসারীরাই সমান অধিকার নিয়ে প্রবেশ ও প্রার্থনা করতে পারবেন।
খুতবা ও নিয়োগে ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ: নতুন বন্দোবস্ত অনুযায়ী, আল-আকসার ইমাম, খতিব এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা থাকবে। এমনকি প্রতি শুক্রবার জুমার খুতবায় কী বলা হবে, তা আগে থেকে যাচাই ও অনুমোদন করার ক্ষমতাও ইসরায়েলকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর অবস্থানপ্রস্তাব অবহতিকরণ: যুক্তরাষ্ট্রের এই খসড়া পরিকল্পনা সম্পর্কে ইতোমধ্যে বাহরাইন, মিসর, মরক্কো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।সৌদি আরবের বিরোধিতা: জর্ডানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে।জর্ডানের জন্য গুরুত্ব: আল-আকসার দেখভালের ঐতিহাসিক অধিকার জর্ডানের হাশেমী শাসক পরিবারের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বৈধতার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ।

Comments
Post a Comment