হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের ধ*র্ষ*ণ এর শিকার মেয়েটির নাম আশা মনি। বয়স ১৩ বছর। তবে শারীরিক গঠনে মনে হয় তার বয়স ৮-১০ বছর। গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম। মা বাবা গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে ভাড়া থাকেন গাজীপুরের মৌচাকে। তাদের পাশের ঘরে ভাড়া থাকে হিন্দু সঞ্জিত বর্মনের পরিবার। সঞ্জিতের বাড়ি টাঙ্গাইল। সঞ্জিতের এক শ্যালক লোকনাথ চন্দ্র দাস। লোকনাথের এক ভাগিনা জয় কুমার দাস চাকরির উদ্দেশ্যে এসে কিছুদিন সঞ্জিতের বাড়িতে ছিল। তখনোই সে মেয়েটিকে টার্গেট করে। জয় মেয়েটিকে সঞ্জিতের ঘরে নিয়ে তার সাথে লুডু খেলতো। যেহেতু মেয়েটি দেখতে একেবারেই ছোট এজন্য তার মা বাবা এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় নি। জয় মেয়েটিকে চকলেট ইত্যাদি নিয়মিত গিফট করে তার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকে। এই ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে মেয়েটির মা-বাবা টের না পেলেও সঞ্জিত ও তার স্ত্রী ঠিকই জানতো। বিশেষ করে সঞ্জিত ও তার স্ত্রী এসব ব্যাপারে মেয়েটিকে উৎসাহ দিত। হঠাৎ একদিন মেয়েটি মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় লোকনাথ ও তার দুলাভাই সঞ্জিতের সহযোগিতায় জয় মেয়েটিকে মেলা দেখাতে যাওয়ার নাম করে অপহরণ করে লোকনাথের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে লাগাতার তিনদিন ধ*র্ষ*ণ করে। এ সময় মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে তার মা-বাবা কালিয়াকৈর থানায় একটি জিডি করেন। এরপর দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও বিভিন্ন মহলের হুমকি ধমকিতে ভীত হয়ে পরিবার ধ*র্ষ*ণ মামলা করতে পারেনি। অবশেষে স্থানীয় তরুণ আলেম মাওলানা আনিসুর রহমান সাহেব বিষয়টি জানার পর ভিকটিম পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ফলে তারা মামলা করার সাহস পান। 



হিন্দু ছেলের সাথে সম্পর্কের কারণে মেয়েটির প্রতি মনে মনে আমার রাগ থাকলেও কালিয়াকৈর থানায় মেয়েটিকে দেখে আমি অনেকটা আবেগ তাড়িত হয়ে যাই। মেয়েটি একেবারেই ছোট। দুনিয়ার বাস্তবতা বোঝার বয়স হয়নি। এইটুকু শরীরের উপর দিয়ে এতটাই জুলুম করা হয়েছে। ঘটনার দুমাস হয়ে গেলেও এখনো মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ। আমাদের দেখে শোয়া থেকে উঠে বসতে গেলে একা একা বসতে পারছিল না। তার মা এবং মহিলা পুলিশের সাহায্য নিতে হয়েছে। 


কালিয়াকৈর থানার ওসি প্রথমে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে জয় ও লোকনাথকে গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অপরাধ স্বীকার করে। বাদীপক্ষ ও অপরাধীদের জবানবন্দীর আলোকে মামলা নথিভুক্ত করে তাদেরকে কোর্টে চালান করে দেয়া হয়েছে। তবে মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচলিত আইনে যতটুকু ন্যায় বিচার সম্ভব তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কালিয়াকৈর প্রশাসনের কার্যক্রমে এখনো পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি, তারা তাদের এই পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ভিকটিমের প্রতি সুবিচার করবে। 


কালিয়াকৈর-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ভাইয়েরা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের পাশে ছিলেন। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, এত বড় একটি ঘটনা মিডিয়ায় এড়িয়ে গেল। আজ যদি কোন হিন্দু মেয়ের সাথে এমন কিছু ঘটতো তাহলে এটি হতো জাতীয় ইস্যু। তাদের কথা আর কি বলব! আমাদের ইসলামপন্থী নেতৃবৃন্দের নীরবতায় বেশি কষ্ট পেয়েছি। 

-আতায়ুর রহমান বিক্রমপুরী